১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রচ্ছদ সারা বাংলা রাজধানীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করলেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ।
২২, অক্টোবর, ২০১৯, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ -

সেলিম মিয়াঃ

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম বলেছেন, সড়কে চলতে হলে সকলকে নিয়ন মেনে চলতে হবে। কাউকে দোষারোপ না করে নিরাপদ সড়ক তৈরিতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

আজ (২২ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় রাজধানীর সায়েদাবাদের জনপথ চত্বরে আয়োজিত জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে র‌্যালি ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। উক্ত র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করে ডেমরা ট্রাফিক জোন, ট্রাফিক পূর্ব বিভাগ, ডিএমপি।

রাস্তায় চলার সময় সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহবান জানিয়ে ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বলেন, সড়কে গাড়ি চালানোর সময় চালককে নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেই সাথে গাড়ির মালিক, মোটর শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীসহ প্রত্যেককেই যার যার অবস্থান থেকে ট্রাফিক আইন মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করলে নিরাপদ সড়ক তৈরি করা সম্ভব। ট্রাফিক আইন ও রাস্তা চলাচলের নিয়মকানুন বেশি বেশি করে জানতে হবে এবং মেনে চলতে হবে। দুর্ঘটনা কারও কাছে কাম্য না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মহাঃ আশরাফুজ্জামান বিপিএম বলেন, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক পক্ষ জড়িত থাকে। আমরা আইনের তোয়াক্কা না করে সবাই আগে যেতে চেষ্টা করি। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। যে যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে।

এসময় ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।

মেট্রোপলিটন স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বুশরা বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না কথাটি আমরা অনেক দিন থেকে শুনে আসছি কিন্তু এ থেকে আমরা বের হতে পারছিনা। আমরা চাই না সড়কে আর কোন প্রাণ ঝরবে। সকলে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলুন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ড্রাইভার জালিলুর রহমান বলেন, আগে আমরা সড়কে বিভিন্ন রোড সাইন দেখতে পেলেও এখন আর চোখে পড়ে না। কোন ড্রাইভারই চাই না দুর্ঘটনা ঘটুক। সড়ক দুর্ঘটনা হলে একটি পরিবার শেষ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের সাথে আমরা চালকও ক্ষতিগ্রস্থ হই। আমাদেরও স্ত্রী সন্তান আছে, আমরা অশিক্ষিত গরিব মানুষ, পেটের দায়ে গাড়ি চালাই। সকলকে বলবো আপনারা ট্রাফিক আইন মেনে চলুন আর আমাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে সহযোগিতা করুন।

ব্রাইট স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে হবে। জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রীজ দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। গাড়ির চালক দেখে শুনে গাড়ি চালালে নিরাপদ সড়ক তৈরি হবে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, গাড়ির তুলনায় দেশে ৭০ লাখ ড্রাইভারের ঘাটতি রয়েছে। স্কুলের বাচ্চারা নিজে নিজে রাস্তা পারাপার না হয়ে বড়দের সাথে একত্রে রাস্তা পারাপার হবা। এতে করে দুর্ঘটনা কম হবে। আমরা সবাই সবাইকে সহযোগীতা করবো। কেউ কাউকে দোষারোপ করবো না।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে ট্রাফিক পুলিশ, শিক্ষার্থী ও পরিবহণ শ্রমিক উপস্থিতে একটি র‌্যালি সায়েদাবাদ জনপথ চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে যাত্রাবাড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।