২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রচ্ছদ সারা বাংলা এ বছর রেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৮ জন
১২, নভেম্বর, ২০১৯, ৭:৪০ অপরাহ্ণ -

অনলাইন ডেস্কঃ

ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম মনে করা হলেও সড়কের পাশাপাশি রেলপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম নয়। দেশে প্রায়ই ছোট-বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো লাইনচ্যুত হয়ে বা দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ধনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। নিহত ও আহত হচ্ছেন শত শত মানুষ।

দেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ জানুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে। ওই দুর্ঘটনায় ১৭০জন নিহত হন, আহত হন আরও ৪০০ যাত্রী। বিভিন্ন কারণে দেশে ভয়াবহ সব ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটেছে। আজকের প্রতিবেদনে এ বছরে ঘটে যাওয়া এমনই কিছু দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হলো-

অটোরিকশাকে ট্রেনের ধাক্কা: ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ টাঙ্গাইলে রেলক্রসিংয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ট্রেনের ধাক্কায় দুজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনার সময় আহত হন আরও দুজন। ঘটনার দিন দুপুর দুইটার দিকে সদর উপজেলার রসুলপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কুলাউড়ায় দুর্ঘটনা: ২০১৯ সালের ২৩ জুন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। উপজেলার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় ৬ জন নিহত হন।

ড্রামট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ: ২০১৯ সালের ৭ জুলাই গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে ধোয়ামোছার কাজ সেরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ড্রামট্রাকের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। ঘটনার দিন ভোর চারটার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম স্টেশন সংলগ্ন দক্ষিণখান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনটিতে যাত্রী ছিল না।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া: ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই একটি উন্মুক্ত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ১১ আরোহী নিহত হন। সে সময় আহত হন আরো ৪ জন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়া পৌরসভার গুচ্ছগ্রাম এলাকা (কনে বাড়ি) থেকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াকান্দি পাড়ায় যাচ্ছিল। উল্লাপাড়ার সলপ রেলস্টেশনের রেলক্রসিং এলাকায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর পদ্মা এক্সপ্রেস মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রংপুরে ট্রেন দুর্ঘটনা: রংপুরের কাউনিয়া রেলওয়ে স্টেশনে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর ট্রেন দুর্ঘটনায় এক যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১৫ জন। ঘটনার দিন বিকেল পৌনে চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী একটি ট্রেনের ইঞ্জিন একদিক থেকে ঘুরে অন্যদিকে লাগানোর সময় দাঁড়ানো ট্রেনকে ধাক্কা দিলে দুটি বগি ভেঙে যায়। এতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হন। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এক নম্বর লাইনে ঢুকছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথাকে আউটারে থাকার সিগন্যাল দেয়া হয়। চালক সিগন্যাল অমান্য করে মূল লাইনে ঢুকে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।