২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রচ্ছদ ফিচার বিলুপ্ত প্রায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি
১৫, নভেম্বর, ২০১৯, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ -

এনামুল হক, মুক্তাগাছা(ময়মনসিংহ):

গ্রাম -বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির কদর আগের মতো আর নেই। বিদ্যুৎচালিত যান্ত্রিক যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অতল গহবরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঢেঁকি। তবে এক সময় এই ঢেঁকি দিয়ে চাল, ডাল ,আদা, রসুন, মরিচ গুড়া, ভাঙ্গার সমন্বয়ে তৈরি করা হতো গ্রাম বাংলার ভাষায় মরিচ পিঠা । কিন্তু আজ ধানকল, আটাকলের ব্যাপক প্রসারের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঢেঁকি। এখন আর আগের মতো গ্রাম -বাংলায় ঢেঁকি চোখে পড়ছে না। শোনা যায় না ঢেঁকির ঢক-ঢক শব্দ। আগে গ্রামের বধূরা ধান ভানিয়ে চাল তৈরি করে নানা রকম সুস্বাদু পিঠা তৈরি করতো। ঐ সময় গ্রামাঞ্চলের বধূরা পালাক্রমে বিশেষ করে নতুন ধান ওঠার পর ঢেঁকিতে ধান ভেনে নবান্ন উৎসবে নতুন নতুন নানা জাতের পিঠা তৈরিতে মেতে ওঠতো তারা। এ সময় নানা রকম কিচ্ছা-কাহিনী, খোশ-গল্প, গীত করতো, বিশেষ করে বৌ ধান ভানে ঢেঁকিতে পাদিয়া, ঢেঁকি নাচে বৌ নাচে হেলিয়া দুলিয়া, ওবৌ ধান ভানে রে এবং বিয়ের সময় হলুদ ভাটে ,মেহেদি ভাটে মাখোরে মোর সখির গায় ’’ করে কোলাহল করতো। কিন্তু সেই ঢেঁকি আজ গল্পে মাত্র। ফলে নতুন প্রজন্ম ঢেঁকি শব্দটি ভুলতে বসেছে। তারা জানে না ঢেঁকির নেয় গৌরবময় অতীতের কথা। লণীয় বিষয় এটাই যে গ্রামাঞ্চলে এখন ধান, আটা, হলুদ, মরিচ, ডাল ভানা হয় যন্ত্র চালিত কলে। তাই ঢেঁকি পাওয়া এখন দুষ্কর। কালে ভদ্রে যদিও ঢেঁকি চোখে পড়ে গ্রামের দণন একটি ঘরে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে দু-চারটি বাড়িতেই এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের বনবাংলা গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, ঢেঁকির তৈরি ধান ও আটার পিঠার স্বাদ খুব ভাল। কলের যন্ত্রে যে আটা বানানো হয় এসব পিঠা স্বাদতো দূরের কথা গন্ধ আসে। কিন্তু কি আর করার তার পরেও মানুষ শীত মৌসুমে বাজারের পিঠা খেয়ে শীত পিঠার স্বাদ গ্রহণ করে। এব্যাপারে বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের রফিক উদ্দিন আহমেদ (মজনু) জানান, শুধু ঢেঁকি কেন, ধীরে ধীরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ঘানি শিল্প, ধুপ শিল্প, খয়ের শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। যা এক সময় গ্রাম -বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে ছিল ।