১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রচ্ছদ সারা বাংলা ময়মনসিংহে লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব ঠেকাতে ইউএনও শেখ হাফিজুরের নেতৃত্বে দিনভর অভিযান।।জরিমানা আদায়।।
১৯, নভেম্বর, ২০১৯, ৯:২১ অপরাহ্ণ -

মারুফ হোসেন কমলঃ

অদ্য ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে লবনের মুল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই গুজব ঠেকাতে বাজার পরিদর্শনে যান ময়মনসিংহ সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ হাফিজুর রহমান। লবনের মুল্য বৃদ্ধির গুজব শুনে ময়মনসিংহের ছোটবাজারে লবনের গোডাউন গুলোতে ক্রেতাদের লাইন শুরু হলে মঙ্গলবার বিকালে তিনি সরাসরি গোডাউন ও বাজারের দোকানগুলোতে লবণের মুল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন।

মঙ্গলবার বিকালে তিনি জরুরী পেশাগত কাজে ঢাকায় যাওয়ার প্রোগ্রাম থাকলেও সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে বাচাতে সেই প্রোগ্রাম বাতিল করে লবণের গুজব ঠেকাতে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে লবনের বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন- ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব -উল- আহসান, ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুল আলম, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর দীপক মজুমদার,ইকবাল অাহমেদ, পেশকার আবুল হাসিম,লবন ব্যবসায়ী মক্কা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী গোলাম সামদানী শামীম,সুলভ স্টোরের সত্ত্বাধিকারী শংকর বসাক,ফকির ট্রেডার্সের হাবিবুর রহমান ফকির,মদিনা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল করিম,মেসার্স চন্দন ট্রেডার্সের চন্দন কান্তি পালসহ অাইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ।

এসময় তিনি সেখানে কয়েকটি দোকানে লবন কেনাবেচার চালান,বাজার মুল্যের চার্ট দেখেন। পরে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে লবনের মুল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাময়িক ভাবে প্রতি খুচরা বিক্রেতাদের নিকট ১০ কেজির বেশী লবন বিক্রি করতে নিষেধ করেন। সেই সাথে লবনের প্যাকেটের গায়ে লেখা মুল্যের বেশী দামে লবন ক্রয় না করতে সকলকে আহবান জানান এবং কেউ যদি বেশী দামে লবন বিক্রি করে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহবান জানান।

তিনি বলেন-ময়মনসিংহে লবণের কোন ক্রাইসিস নেই, পর্যাপ্ত লবন মজুদ আছে। সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে এটি একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রমোলক গুজব তাই এ গুজবে কাউকে কান না দেওয়ার আহবান জানান ইউএনও শেখ হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন-বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের প্রায় ১৯টি দেশে লবণ রপ্তানী করা হয়। সুতরাং যেখান থেকে বাইরে লবণ দেওয়া হয় সেখানে লবণের ঘাটতির প্রশ্নই উঠেনা। ১৯৭৪ সালেও সরকারকে বিপাকে ফেলতে লবণ নিয়ে চক্রান্ত হয়েছিলো। এটাও বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফালানোর একটা কৌশল। তিনি লবনের বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রনে উপজেলার সিটি এলাকাসহ বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতে টিম পাঠালে চরপাড়া এলাকায় শহিদুল্লাহ নামক এক ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত মুল্যে লবন বিক্রি করায় দশ হাজার টাকা জরিমানা করেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদলত টিম।

 

লবনের মুল্য নিয়ন্ত্রনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদারকির বিষয়টি বাজারে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি লবন প্যাকেট নির্ধারিত মুল্যেই বিক্রি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এতে ইউএনও’র ভূয়সী প্রশংসায় মেতে উঠেন সাধারণ ক্রেতারা।


দোকানদারেরা জানান, প্রতি কেজি লবন প্যাকেট নির্ধারিত মুল্যে খুচরা ও পাইকারী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। লবনের কোন ঘাটতি নেই। তাই কাউকে বিচলিত না হওয়ার আহবান জানান তারা।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চলে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা লবণ নাই ও লবণ শেষ বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন একাধিক খুচরা ও সাধারণ ক্রেতারা। তথ্য প্রতিদিন. কম