২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রচ্ছদ সারা বাংলা শুরু হলো ডিএমপির ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ- ২০১৯
২১, নভেম্বর, ২০১৯, ১১:৪২ অপরাহ্ণ -

সেলিম মিয়াঃ

সড়কে চলাচলরত গাড়ির চালক, হেলপার, পথচারীসহ সাধারণ মানুষের দায়িত্ব, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সচেতন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ ২০১৯। ১৫ দিনব্যাপী এই সচেতনতা অনুষ্ঠান চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আজ (২১ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়াম এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার), ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সড়কে চলাচলের সময় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও পথচারী সড়কে আইন মেনে চললে অনেকখানী সফল হবো বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমরা কেউ আইন মানতে চাই না, আইন মেনে চললে সম্মানবোধ হয় এবং সম্মানিত হওয়া যায়। ২০১৮ সালে আমরা সড়ক পরিবহন আইন পাশ করেছিলাম যেটা ইমপ্লিমেন্ট করার সময় কয়েকটি যৌক্তিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সমস্যা সমাধানে গতকাল (২০ নভেম্বর) মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে সকল গাড়ির চালক লাইটের লাইসেন্স নিয়ে মিডিয়াম, মিডিয়ামের লাইসেন্স নিয়ে হেভি গাড়ি চালাচ্ছেন তাদেরকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট করে নেয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে দূরপাল্লার ট্রাক, লরির চালকের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি করা হচ্ছে। আমরা চাই সকলে নিরাপদ থাকুন। যারা বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালান তাদের দিয়ে দুর্ঘটনা হয়। এই আইনের কয়েকটি ব্যাপারে পরিবহন নেতৃবৃন্দের আপত্তি ছিল। তারা আমাদের কাছে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। বাকীগুলো যুগোপযোগি হিসেবে তারা সমর্থন জানিয়েছেন। আমরা প্রস্তাব আকারে ৯ দফা দাবি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবো। মাননীয় সড়ক ও সেতু মন্ত্রী এ বিষয়ে যৌক্তিক ব্যবস্থা নিবেন। রাস্তায় চলতে কার কি দায়িত্ব ও করণীয়-বর্জনীয় সে বিষয়ে সচেতন করতে ট্রাফিক পক্ষ করা হচ্ছে। আমরা মনে করি আইন যথাযথভাবে মানলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।

ডিএমপি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ পালন করতে যাচ্ছে জানিয়ে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) বলেন, বিশ্বের উন্নত শহরগুলোতে ট্রাফিক একটি অন্যতম বড় সমস্যা। অনেক কারণে ঢাকা শহরে ট্রাফিক প্রকট আকার ধারণ করছে। ট্রাফিকের ক্ষেত্রে প্রধানত ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রাফিক এডুকেশন, ট্রাফিক ইনভারমেন্ট ও ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশ ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্টের একটি অংশ পালন করে থাকে। সড়কে কোন কিছু হলে আমরা ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করে থাকি। আমরা যারা রাস্তা ব্যবহার করি, আমাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের সকলের মধ্যে যেন আইন না মানার সংস্কৃতি কাজ করে।

তিনি আরো বলেন, আইন প্রয়োগের কারণে আমার কোন অফিসার বদলী হবেন না। তবে আইন প্রয়োগের সময় অবশ্যই তাকে বিনয়ী হতে হবে। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ রাস্তা থাকার দরকার। সেখানে আমাদের দেশে রাস্তা রয়েছে মাত্র ৮ ভাগ। ড্রাইভার, মালিক- শ্রমিক ও পথচারী সকলকে আইন মেনে চলতে হবে। বর্তমানে সারা বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নো হেলমেট, নো ফুয়েল নীতি পালন করছে। আমরা চাই সড়কে একটি জীবন যেন হানী না হয়, প্রতিটি জীবনই অমুল্য। আমাদের মনে রাখতে হবে একটি জাতিকে চেনা যায় তার ট্রাফিক শৃংখলা দেখে। আসুন আমরা ট্রাফিক শৃংখলা বজায় রাখি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) বলেন, সড়ক পরিবহন আইনটি করা হয়েছে সড়কের শৃংখলা ফেরানোর জন্য। জরিমানা আদায় করা সরকার বা ট্রাফিক পুলিশের উদ্দেশ্য নয়। সড়কে যদি শৃঙ্খলা থাকে তাহলে মামলা করার কোন প্রয়োজন নাই। মূল কাজটা হল সড়কে যদি সবাই ট্রাফিক আইনটা মেনে চলেন তাহলে ট্রাফিক পুলিশের মামলা করার কোন প্রয়োজন নাই। রাস্তায় যে গাড়িটি অচল হয়েছে সেটি রেকারিং হবে অথবা যে গাড়িটি রাস্তায় ড্রাইভার ছাড়া দীর্ঘ সময় অবস্থান করে যানজটের কারণ হচ্ছে সেই গাড়িটি রেকারিং করা হবে। এর বাহিরে কোন রেকারিং করা হবে না।

খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আগামী ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গাড়ির চালকদের যার যার যে বৈধ লাইসেন্স আছে তা দিয়ে গাড়ি চালাতে পারবেন। তবে এই সময়ের মধ্যে নিজেদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আপডেট করে নিতে হবে। এটাই শেষ সুযোগ, এরপর কোন আপত্তি চলবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সারাদেশে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অনুরোধ জানান।

এ সময় পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপি নিউজ