স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ফাতেমা নগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী কালির বাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত খাজনার চেয়ে তিন গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে এই হাটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমদানি-রফতানি খাজনার অজুহাতে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে দুই দফা খাজনা আদায় করা হয়। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাট বিমুখ হচ্ছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালির বাজার হাটে প্রায় দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই হাটে কোথাও খাজনার তালিকা টানানো হয়নি। মূল ইজারাদার প্রতিটি পণ্যের বাজার পৃথকভাবে সাব-লিজ দিয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। লিজ নেওয়া ব্যক্তিরা পৃথক পৃথক মালামালের খাজনা আদায়ে লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা সরকারি নীতিমালা না মেনে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন।
হাটে পেঁয়াজ, রসুন, আলু ও মরিচ কুইন্টাল প্রতি সরকার নির্ধারিত খাজনা ১৬ টাকা হলেও, আদায় করা হচ্ছে ৬০ টাকা। ধানের বস্তাপ্রতি ১০ টাকার জায়গায় নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা। সবজির ক্ষেত্রে নির্ধারিত খাজনা কুইন্টাল প্রতি ৮ টাকা। কিন্তু একটি লাউ বিক্রি করতে হলেও দিতে হচ্ছে ১০ টাকা। মরিচ বিক্রি করতে প্রতিজনকে দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা,আবার ক্রেতার থেকেও কেজি প্রতি ১০টাকা, পশুর হাটে মুরগিতে শতকরা ১০ টাকা, ছাগলের ক্ষেত্রে হাজার প্রতি ১০০ টাকা, গরুতে হাজারে ৫০ টাকা, ফুটপাতের দোকানে শুধু চট বিছানোর জন্য ৫০ টাকা। এছাড়া পৃথকভাবে অন্যান্য মালামালের খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
হাটে আসা কানিহারী গ্রামের আব্দুল করিম বলেন,বাসায় খাওয়ার জন্য ৩কেজি শুকনা মরিচ ক্রয় করে নগদ ৩০ টাকা খাজনা দিয়েছি। নূরুন্নাহার নামের আরেক মহিলা জানায়-সে ৮ কেজি শুকনা মরিচ কিনেছে পরিবারে খাওয়ার জন্য তাকেও দিতে হয়েছে ৮০ টাকা,আবার যে কৃষক মরিচ বিক্রি করেছেন তার কাছ থেকেও আরেক দফায় খাজনা নেওয়া হয়েছে।’
আব্দুল আউয়াল নামে এক বিক্রেতা বলেন, সে ফুটপাতে জামা-কাপড়ের দোকান পাতার সঙ্গে সঙ্গে হাট মালিকের লোকজন এসে ১৫০ টাকা খাজনা নিয়ে গেছে।’
চুরখাই থেকে গরু নিয়ে আসা ট্রাকচালক বলেন, ‘হাটে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। গরুর জন্য খাজনা তো দিয়েছিই, সঙ্গে গাড়ির জন্য ২০০ টাকা নিয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের এক ঘর মালিক বলেন, স্থানীয় হাট ইজারাদাররা প্রভাবশালী। তাই অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। বর্তমান নিয়োজিত ইজারাদার এই হাটের ইজারা নেওয়ার পর থেকে আতিরিক্ত খাজনা আদায়সহ গাড়িতে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। তারা সরকার দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রভাব খাটিয়ে বাজারে ইজারা খাজনা আদায়ের নামে এসব নৈরাজ্য করলেও কেহ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।
উল্লেখ্য* বাংলাদেশে সরকারি হাট-বাজারে খাজনা (টোল) আদায়ের নিয়ম সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইজারা নীতিমালা-২০১১ এবং হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত টোল আদায় দণ্ডনীয় অপরাধ। ইজারাদার বা তার প্রতিনিধিকে অবশ্যই নির্দিষ্ট রশিদ ব্যবহার করে সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায় করতে হয়,
খাজনা আদায়ের প্রধান নিয়মাবলীর মধ্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত টোল আদায় করা বেআইনি, খাজনা আদায়ের সময় ইজারাদারকে অবশ্যই সরকারি রশিদ ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকলেও মানা হচ্ছে না এসব নিয়ম,নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে রশিদ ছাড়া আদায় করছে অতিরিক্ত খাজনা ইজারাদার।ইজারাদাররা বাজার টুকরো টুকরো করে অন্যদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন না এমন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানা হচ্ছে না এই আইন। বিজ্ঞ মহল বলছেন প্রশাসনের তদারকি নেই বলেই আইন অমান্য করে হাট-বাজার গুলোতে এসব অনিয়ম চলছে।
এ ব্যাপারে হাট ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টায় তাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মাহবুবুর রহমান জানান-বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন