স্টাফ রিপোর্টারঃ
শেরপুরের নকল উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদী পারাপারে
উপজেলার নারায়নখোলা থেকে পিয়ারপুর
খেয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক খেয়া মাঝি দিয়ে খাস আদায় করা হচ্ছে। এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। এতে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী পারাপারে নকল উপজেলার ৮নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা খেয়াঘাটে খাস আদায়ের কাজে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি চর অষ্টধর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় খেয়া ঘাটের মাঝিদের সহায়তায় খাস আদায় করে আসছেন। এর ফলে পারাপারের সাথে সম্পৃক্ত যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধরণ যাত্রীরা জানান। চালকসহ মোটরসাইকেল পারাপারে নেওয়ার কথা ২০ টাকা; সেখানে নিচ্ছে ৩০ টাকা। যাত্রীসহ মোটরসাইকেল পারাপারে নিচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। যদি কেউ রিজার্ভে খেয়া পার হয়, সেখানে খাস আদায় জনপ্রতি ১০ টাকা নেওয়ার পরেও খেয়া নৌকায় ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, রাত ১০টার পরে প্রতি খেয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা ও ভারী মালামাল পরিবহনে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। খাস আদায়ে দৈনিক ৫হাজার টাকা নায়েবকে দিতে বলে জানিয়ে মাঝি হালিম বলেন-এই পরিমাণ টাকা আদায় না করলে নায়েবকে টাকা দেওয়ার পর আমাদের পোষে না। তারপরও তিনি এপ্রতিনিধিকে লিটন নামের এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে লিটন সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

সাধারণ যাত্রীরা জানান, পূর্বে এই খেয়াঘাট ২২-২৮লাখ পর্যন্ত ইজারা ঢাক হতো তবে ইজারাদার এত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেনি, গত ৫ আগষ্ট এর পর থেকে নারায়ণখোলার এই খেয়াঘাট ইজারাদার বীহীন প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার খাস আদায় করছে তবুও আমাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়নি।
খেয়াঘাটের কিছু মাঝি জানান, আগে খেয়াগাট ময়মনসিংহ ৎেকে ইজারা আনতে হতো,গত ৫আগস্টের পর থেকে এর ইজারা না হওয়ায় স্থানীয় নায়েবের মাধ্যমে ৭লক্ষ টাকায় খাস হিসাবে নিয়েছি,সামনের কুরবানি ঈদের ৫দিন পর আমাদের মেয়াদ শেষ হবে, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান- আগে তেলের টাকা ইজারাদারের কাছে চাইলেই পাইতাম আর এখন বাকিতে তেল কিনে খেয়া নৌকা চালাতে হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে জানতে তার দপ্তরে গিয়ে সাক্ষাৎ না পেয়ে মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি জানান- নারায়ন খোলা খেয়াঘাট ইতিপুর্বে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার স্যারের কার্যালয়ে শিডিউল বিক্রির মাধ্যমে ২২-২৮লাক টাকায় ইজারা দেওয়া হতো,তবে গত ৫আগস্টের পর থেকে এত টাকায় কেহ ঘাটটি ইজারা নিতে শিডিউল ক্রয় না করায় এর ন্যায্য দরদাতা ইজারাদার না পাওয়ায় বিভাগীয় কমিশনার স্যারের পরামর্শ মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ঈদের পর খাস নেওয়া মাঝির মেয়াদ শেষ হবে, আনরা সেলক্ষে প্রস্তুতি নিতে কমিশনার স্যারকে রিপোর্ট পাঠিয়েছি।
খাস আদায়কৃত টাকা কোথায় জমা দেওয়া জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হক জানান- তিনি প্রতি ১৫ দিন পর-পর ৩০-৪০ হাজার টাকা পান সেটা বিভাগীয় কমিশনার এর সরকারি ফান্ডে জমা করেন। মাঝির বক্তব্য অনুসারে দৈনিক ৫হাজার টাকা হলে ১৫দিনে ৭৫ হাজার টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও এত কম হয় কেন জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় লিটন ও এর সাথে যোগাযোগ করতে বলে।
মাঝি জানায় লিটন খান একজন রাজনৈতিক নেতা,
স্থানীয় গণ্যমান্যদের মতে-স্থানীয় প্রভাবশালী একটা সিন্ডিকেট চক্র ন্যায্য দরদাতাদের ভয় দেখিয়ে খেয়াঘাট ইজারা নিতে অনীহা তৈরী করেন,কারণ খাস কালেকশনে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করে লুটপাট করে খাওয়ার কৌশল এটা। যে কারণে নায়েব ও মাঝির বক্তব্যে এমন গড়মিল দেখা যাচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে কল দিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কল রিসিভ করলেও একটি মাইকের উচ্চ শব্দের বিকট আওয়াজ কথা বলায় বিঘ্ন ঘটায় তিনি কল কেটে দেন।
মন্তব্য করুন