স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আওয়ামীপন্থী পেশাজীবি সংগঠনের নেতা,স্বাধীনতা চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চতুর্থ শ্রেণীর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের দাপটে অতিষ্ঠ হাসপাতালের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তার শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ড ও অনিয়ম-দুর্নীতিে একদিকে যেমন হাসপাতালটির কার্যক্রমে রোগীরা অতিষ্ঠ অপরদিকে তার ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ কর্মচারীরা
অভিযোগ উঠেছে-ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর
আস্থাভাজন হিসাবে বিগত ১৭ বছর ‘রাজত্ব’ করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর
ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অপকর্মসহ হাসপাতালের বিএনপিপন্থী ও সাধারণ কর্মচারীদের বদলীসহ নানাভাবে হয়রানি করতেন মিজানুর রহমান । দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে যাওয়ার পরেও এখনো তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি পন্থী কর্মচারীদের গালিগালাজসহ নানাভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ হাসপাতালের কর্মচারীদের।
অভিযোগ উঠেছে- নিজেকে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সাথে সক্ষতা তৈরী করে মেয়রের ক্ষমতাকে হাতিয়ার বানিয়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গত ১৫ বছর ধরে দেখিয়েছেন দাপট, করেছেন বিএনপি সমর্থিত কর্মচারীদের বদলি ও আওয়ামী পন্থীদের পদোন্নতি বাণিজ্য, নিয়েছেন অনৈতিক সুবিধা। শুধু তাই নয়, একটি সিন্ডিকেট গড়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদেরও দিয়েছেন বিশেষ সুবিধা। গত জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনরত কর্মচারীদের উপর করেছেন অত্যাচার ও নির্যাতন। শেষ পর্যন্ত সেই গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী সরকারের পতন হলেও মিজানুর রহমান এখনও দাপট দেখাচ্ছেন।
অভিযোগের জানা গেছে -মিজান আওয়ামীপন্থী কর্মচারী হলেও তার কাছে এখনো জিম্মি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কর্মরত আছেন বলে এখানকার নাড়ি-নক্ষত্র সবই তার নখদর্পণে। দীর্ঘদিন ধরে একই কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাদে অনুসারী ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন আলাদা সিন্ডিকেট। তিনিই যেন সর্বেসর্বা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মিজান বিভিন্ন সময় নাজেহাল করতেন অফিসের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বড় বড় কর্তাবাবুরাও তার কাছে বাধ্য হয়ে ধরা দিতেন নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও কাজ আদায় করে নিতে। মিজানুর রহমানের ক্ষমতার দাপটে তারাও তখন ছিলেন অসহায়। ঘুষ না দিলে কারোই কাজ করতেন না তিনি। দুর্নীতি-অনিয়ম আর ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। কিনেছেন অজস্র সম্পদ। মিজানুর রহমানের অত্যাচার ও নির্যাতন বাড়তে থাকায় বাধ্য হয়ে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতালের জমাদার আজহারুল ইসলাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নাম ভাঙিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে নানা কৌশলে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, বদলি ফরোয়ার্ডিং, মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর, ছুটি পরবর্তী যোগদান বাবদও তাকে দিতে হতো নগদ টাকা। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রভাব খাটাতে সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর প্রভাবকে কাজে লাগাতেন মিজান,কর্মচারীদের মনে ভয় সৃষ্টি করে রাখতে সমিতিকে তিনি ইকরামুল হকনটিটুর প্যানা ফেস্টুন দিয়ে সাজিয়ে একরকম আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যাবহার করতেন। জানা গেছে
আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের ৩নং ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি চালাতেন রাতভর জুয়া,তার জুয়ার বোর্ডে পুলিশ হামলা চালালেও আওয়ামী লীগের প্রভাবে পাড় পেয়ে যেতো মিজান। তবে ক্ষমতার দাপটের কাছে কোয়ার্টারে বসবাসকারী শান্তিপ্রিয় কর্মকর্তারাও অসহায় থাকায় কিছু বলতে বা প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।
ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর মিজানুর রহমানের দাপুটে কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে বৈষম্যের শিকার সাধারণ কর্মচারী জমাদার আজহারুল ইসলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মিজানুর রহমান।
মন্তব্য করুন